নতুন ল্যাপটপ কেনার গাইড | ল্যাপটপ কেনার আগে যা যা মাথায় রাখবেন

21
0

ল্যাপটপ অনেকে কেনে শখে, অনেকে কেনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। স্বপ্ন ল্যাপটপটি দিয়ে অনেক সফলতা অর্জন করার… । আপনি যখন একটি নতুন ল্যাপটপ কিনছেন, তখন কিন্তু সেটি কয়েকদিনের জন্য কিনছেন না! কয়েক বছরের জন্য কিনছেন। আপনি প্রোগ্রামিং এর শিক্ষার্থী হলে সেই ল্যাপটপ দিয়ে আপনার ৪ বছর পার করে, কর্মজীবনেও সেই ল্যাপটপ ব্যবহার করার জন্য ল্যাপটপ কিনছেন।

এই আর্টিকেল থেকে আশাকরি আপনাদের ল্যাপটপ কেনা সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনি বুঝতে পারবেন ঠিক কোন ল্যাপটপটি আপনার কেনা উচিত এবং কোনটি আপনার কেনা উচিত নয়! মূলত প্রোগ্রামিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সেরা ল্যাপটপ কিভাবে বাছাই করবেন আমাদের এই লেখায় সেই বিষয়টি নিয়েই আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

তাছাড়াও আপনার কাছে যদি ইতিমধ্যেও পুরাতন কোন ল্যাপটপ থাকে, তবে নতুন ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোন কোন জিনিসের জন্য আপনি খরচ করছেন; সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করব।

ইন্টেল নাকি এএমডি

ল্যাপটপ কেনার আজকের এই গাইডের শুরুতে আপনাদের এএমডি এবং ইন্টেল নিয়ে কিছু কথা বলে নেই। সহজভাবে বুঝতে গেলে এএমডি এবং ইন্টেল হচ্ছে দুটি কোম্পানি যারা সাধারণত প্রসেসর তৈরি করে থাকে। ইন্টেল হচ্ছে প্রসেসরের বাজারে অনেক পুরাতন মার্কেট লিডার। ইন্টেল প্রসেসরের মার্কেট প্রায় দখল করেই রেখেছিল… ততদিন পর্যন্ত যতদিন না পর্যন্ত এএমডিও মার্কেট খুবই ভালো মানের প্রসেসর নিয়ে আশা শুরু করে।

যদি বর্তমান সময়ের কথা বলা হয়, তবে বলতেই হয় যে এএমডি একটি বেশি ভ্যালু ফর মানি প্রসেসর গ্রাহকদের প্রোভাইড করছে। ইন্টেল যে খারাপ হয়ে গিয়েছে তা কিন্তু নয়! ইন্টেলও ভালো তবে ইন্টেল এএমডির তুলনায় আপনার থেকে প্রসেসরের জন্য একটি বেশি টাকা নিয়ে থাকে। আর এই জন্য বর্তমান সময়ে সবাই এএমডি এর প্রসেসর নেবার জন্য বেশি পরামর্শ দেয়।

এএমডি বর্তমানে বাজারে ৩ সিরিজের প্রসেসর নিয়ে আসে। এগুলো হচ্ছেঃ এথলন, এথলন এবং থ্রেডরেপার। এথলন সিরিজ হচ্ছে তুলনামূলক লোবাজেট সিরিজ, আপনি যদি ২০-৩০-৩৫ হাজার টাকার ল্যাপটপ কিনতে চান, এগুলোতে আপনি এথলন সিরিজের প্রসেসর পেয়ে যাবেন। আর রাইজেন সিরিজ হচ্ছে ল্যাপটপের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ।

বাজারের মিড থেকে হাই বাজেটের ল্যাপটপ গুলোতে এই রাইজেন সিরিজের প্রসেসর গুলোর দেখা মেলে। থ্রেডরেপার সিরিজ দিয়ে মূলত হাই এন্ড গেমিং পিসি গুলো বানানো হয়। ল্যাপটপে থ্রেডরেপার সিরিজের প্রসেসর খুব কমই দেখা যায়।

ইন্টেলের প্রসেসর নেবার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে প্রসেসরের জেনারেশনের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে বাজারে ইন্টেলের ১১ জেনারেশনের প্রসেসর ল্যাপটপের জন্য লেটেস্ট… তবে ১২ জেনারেশনও খুব দ্রুতই চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে যদি আপনি ইন্টেলের প্রসেসর যুক্ত ল্যাপটপ কেনেন তবে অবশ্যই ১০ জেনারেশন কিংবা ভালো হয় ১১ জেনারেশনের ল্যাপটপের দিকেই যাবেন।

ইন্টেলের প্রসেসরের তুলনার ক্ষেত্রে অনেকে সরাসরি আই৫ বনাম আই৭ কোনটি ভালো এরকম প্রশ্ন করে বসেন। তবে ইন্টেলের প্রসেসরের ভেতর তুলনা করতে আপনাকে অবশ্যই প্রসেসরের জেনারেশন এবং মডেল নম্বর সহ তুলনা করতে হবে। ১০ বছর আগের আই৭ মডেলের সাথে নতুন প্রজন্মের আই৫ প্রসেসরের অনেক তফাত রয়েছে।

১০ বছর আই৭ মডেলের চাইতে আপনি নতুন প্রজন্মের আই৫ প্রসেসরের অনেক বেশি পরিমানে পারফর্মেন্স পেয়ে যাবেন। অনেক সময় আপনি ১০ বছর আগের আই৭ মডেলের চাইতে নতুন প্রজন্মের আই৩ প্রসেসরেও ভালো মানের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স পেয়ে যেতে পারেন।

তাই ইন্টেলের প্রসেসরের তুলনা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রসেসরের মডেল, জেনারেশন এগুলো বের করে সঠিকভাবে তুলনা করুন।

ল্যাপটপ বাছাই করা

প্রসেসর সম্পর্কে তো টুকটাক আলাপ করলাম, এবার চলুন আলোচনার আরেকটু ভেতরে ঢুকি। আপনার জন্য ভালো একটি ল্যাপটপ বাছাই করতে প্রথম যে কাজ… সেটি হচ্ছে কয়েকটি ল্যাপটপ শর্টলিস্ট বা বাছাই করা।

এক্ষেত্রে আপনি আমাদের দেশের জনপ্রিয় কিছু কম্পিউটার শপের ওয়েবসাইটের সাহায্য নিয়ে পারেন। আপনি স্টারটেক, রায়ান্স কিংবা টেকল্যান্ড বিডির মত কিছু জনপ্রিয় ল্যাপটপ শপের ওয়েবসাইটে আপনার পছন্দের প্রসেসর অনুযায়ী কিছু ল্যাপটপ বাছাই করবেন।

বাছাই করার সময় আপনি প্রসেসরের মডেল ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে তুলনা করে নিতে পারেন। তুলনা করা তেমন জটিল কিছু নয়। আপনি একটি ল্যাপটপের প্রসেসর মডেলের সাথে ওইরককম দামের অন্য একটি ল্যাপটের প্রসেসর মডেল গুগল লিখে সার্চ করলেই, উপরের দিকের বিভিন্ন তুলনা করার ওয়েবসাইট থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়ে যাবেন।

উদাহরন স্বরূপ আপনি গুগল সার্চ করছেন, ryzen 3 3250u vs i3-1005g1 আপনি প্রথমেই ভার্সেস ডট কম, ন্যানোরিভিউ ডট নেট এর মত ওয়েবসাইটের কম্প্যারিজন আর্টিকেল পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে কোন কোন দিক দিয়ে কোন প্রসেসর কত এগিয়ে সেগুলো দেখতে পারেন।

যেমন, ভার্সেস ডট কমে কোন প্রসেসর কত পয়েন্ট পেয়ে বিজয়ি তা বিস্তারিত ভাবে দেখতে পারবেন। সেখানে আপনি বিস্তারিত ভাবে এক বা একাধিক কোরে প্রসেসরটির বেঞ্চমার্ক স্কোর কত সেগুলোও দেখতে পারবেন।

একান্তই যদি আপনি কাঙ্খিত কোন মডেলের তুলনা ইন্টেরনেটে খুঁজে না পান, তবে কোন প্রসেসরের কোর সংখ্যা এবং থ্রেড সংখ্যা বেশি সেই প্রসেসরটি বাছাই করুন।

ল্যাপটপ বাছাই করতে যে যে বিষয় মাথায় রাখতে হবে

ল্যাপটপ বাছাই করতে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, সেটি হচ্ছে সিপিইউ। সিপিইউ অর্থাৎ হচ্ছে প্রসেসর। যে প্রসেসর নিয়েই আমরা এতক্ষন কথা বললাম। সিপিইউ ইন্টেল নিবেন কিনা এএমডি সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর। আপনি যদি ল্যাপটপের পিছনে একটু বেশি টাকা খরচ করতে চান, তবে ইন্টেলের প্রসেসর নিতে পারেন।

ইন্টেলের প্রসেসর নেবার ক্ষেত্রে সবসময় চেষ্টা করবেন লেটেস্ট জেনারেশনের প্রসেসর কেনার। পুরাতন জেনারেশনের প্রসেসর অনেক সময় দাম কমে পাওয়া গেলেও টা দীর্ঘ সময়ে গিয়ে আপনাকে বেস্ট সার্ভিস দিতে পারবে না।

তবে আপনার বাজেট যদি টাইট হয়, তবে আপনি এএমডির প্রসেসরের দিকে যেতে পারেন। আর সেই ক্ষেত্রে আপনি এএমডির রাইজেন সিরিজের দিকে যাবেন। আর রাইজেন সিরিজের যে প্রসেসরটি নিবেন, তার সাথে ইন্টেলের প্রসেসরের তুলনা করে নিবেন। আর তুলনা কিভাবে করবেন টা কিন্তু একটু উপরে বলেই দিয়েছি।

সিপিইউ এর পরে যে বিষয়টি আসে সেটি হচ্ছে র‍্যাম। আপনি বাজারে ডিডিআর ২, ডিডিআর ৩, ডিডিআর ৪ অনেক অপশন দেখবে। তবে কোনভাবেই ডিডিআর ৪ এর নিচে কোন র‍্যাম নিবেন না। এর পর র‍্যামের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি আসে, সেটি হচ্ছে র‍্যামের স্পীড। র‍্যামের স্পীড সাধারণত ২৪০০ মেগাহার্জ থেকে ৩২০০ মেগাহার্জের হয়ে থাকে। যত বেশি স্পীড র‍্যামটি তত বেশি ফাস্ট। সুতরাং র‍্যামের ক্ষেত্রে ডিডিআর ৪ এবং বেশি স্পীড দুটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

ল্যাপটপের র‍্যামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে, মাদারবোর্ডে কয়টি র‍্যাম স্লট আছে। অবশ্যই এমন ল্যাপটপ বাছাই করবেন, যেখানে এক্সট্রা র‍্যাম স্লট যেন থাকে। এক্সট্রা র‍্যাম স্লটে যেমন আপনার ল্যাপটপের ভবিষ্যৎ আপগ্রেডিবিলিটি বাড়ে, তেমনি ডুয়াল চ্যানেলে অনেক বেস্ট পারফর্মেন্স পাওয়া যায়।

এবার আসে স্টোরেজের বিষয়, HDD নাকি SSD! অর্থাৎ হার্ডডিস্ক নাকি সলিড স্টেট ড্রাইভ। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি যদি এসএসডির দিকে যান সেটি আপনার জন্য উত্তম। কারন এসএসডির মধ্যে কোনরকম মুভেবল পার্টস নেই। আর মুভেবল পার্টস নেই বলে এটি তুলনামূলক ফাস্ট এবং কম নস্ট হয়ে থাকে।

HDD এর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মাথায় রাখবেন , সেটি হচ্ছে হার্ডডিস্কের আরপিএম কত বেশি! অর্থাৎ হার্ডডিস্কটি কত বেশি জোরে ঘুরে। হার্ডডিস্কের আরপিএম যত বেশি হবে সেই হার্ডডিস্কটি তত বেশি ফাস্ট হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কি এসএসডি যুক্ত ল্যাপটপই কিনব? হার্ডডিস্ক দিয়ে কি কাজ চলবে না?

অবশ্যই, চলবে। আপনার প্রসেসর ভালো হলে হার্ডডিস্ক যুক্ত ল্যাপটপ দিয়েও আপনার কাজ চলবে, তবে ল্যাপটপ চালু হয়ে হয়ত হালকা একটু বেশি সময় লাগবে। আবার যেকোনো সফটওয়্যার চালু হতেও একটু বেশি সময় লাগবে।

যেহেতু এসএসডি সম্বলিত ল্যাপটপের দাম অনেক বেশি হয়, সেক্ষেত্রে আপনি হার্ডডিস্ক যুক্ত ল্যাপটপও কিনতে পারেন। তবে অবশ্যই দেখবেন, সেই ল্যাপটপে এসএসডি লাগানোর জন্য M.2 Slot রয়েছে কিনা। যদি স্লট থাকে, তবে পরবর্তীতে আপনার প্রয়োজন সাপেক্ষে একটি এসএসডি লাগিয়ে নিতে পারবেন অনায়াসেই!

চলুন এবার কথা বলি ল্যাপটপের জিপিইউ নিয়ে… আপনার বাজেট যদি টাইট তবে বলব আপনি জিপিইউ কে স্কিপ করে যেতে পারেন। কারন আই৫ কিংবা রাইজেন ৫ এর ল্যাপটপের ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স যেটাকে এপিইউ বলে, সেটা দিয়েও আপনার কাজ চলে যাবে।

আপনি যদি শক্তিসালি এপিইউ চান সেক্ষেত্রে আপনি রাইজেন এর প্রসেসরের দিকে যেতে পারেন। কেননা রাইজেন প্রসেসরের রেডিয়ন ভেগা গ্রাফিক্স ইন্টেলের ইন্টিগ্রেটেড ইউএইচডি গ্রাফিক্স থেকে অনেককাংশে বেশি পারফর্মেন্স দিবে।

তবে গ্রাফিক্সের চিন্তা আপনি করবেন কখন? যখন আপনি ল্যাপটপ দিয়ে হাইএন্ড ভিডিও এডিটিং করবেন, গেমিং করবেন কিংবা বড় বড় গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করবেন। যদি আপনার বড় বড় ভিডিও এডিটিং কিংবা ব্লেন্ডার, ফটোশপের প্রফেশনাল কাজের দরকার না হয়, তখন আপনি জিপিইউ সেকশন’কে স্কিপ করতে পারেন।

আপনার ইন্টেলের ইন্টিগ্রেটেড ইউএইচডি গ্রাফিক্স দিয়েও সাধারন গ্রাফিক্স ডিজাইন কিংবা ভিডিও এডিটিং এর কাজ চলে যাবে। তবে যখন আপনি গ্রাফিক্স কার্ডকে স্কিপ করছেন তখন পরামর্শ থাকবে যে, অবশ্যই আপনার র‍্যাম যেন মিনিমাম ৮ জিবি হয়। কেননা ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স র‍্যাম থেকে মেমরি শেয়ার করে তার গ্রাফিক্স প্রসেসিং এর কাজ করে থাকে।

তবে যদি আপনার ল্যাপটপে ডেডিকেটেড জিপিইউ দরকার হয়, আর বাজেট যদি ৬০-৭০ হাজারের ভেতর হয়, তবে একটি ২ জিবি গ্রাফিক্স কার্ড দিয়েও আপনার কাজ চলে যাবে।

নতুন ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি যে সেবা সেটি হচ্ছে ল্যাপটপের ওয়ারেন্টি। আপানর ল্যাপটপে যত বেশিদিন ওয়ারেন্টি থাকবে আপনার জন্য তত বেশি সুবিধা। একটি ল্যাপটপের জন্য আদর্শ হল, অন্তত ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি থাকা।

নতুন একটি ল্যাপটপ কিনে সেটি সমানে ব্যবহার করলে, ২-৩ বছরে সেটির হার্ডডিস্ক কিংবা কিবোর্ডের মতন পার্টস খারাপ হবেই … স্বাভাবিক। এই ক্ষেত্রে আপনার সার্ভিস ওয়ারেন্টি যত বেশিদিন হবে আপনি তত সহজে বিনামূল্যেই আপনার কাঙ্ক্ষিত সার্ভিসটি পেয়ে যাবেন।

কেমন দামে কেমন ল্যাপটপ

আপনার বাজেট যদি ৪০-৪৫ হাজার টাকা হয়, তবে আপনি আই৩/রাইজেন৩ প্রসেসরের ল্যাপটপগুলি পেয়ে যাবেন। এগুলো দিয়ে আপনি মাইক্রোসফট অফিসের মত প্রডাকটিভিটি সফটওয়্যার গুলো খুবই সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। ইলাস্ট্রেটর, ফটোশপের মতন গ্রাফিক্স এডিটিং সফটওয়ারের কাজ মোটামোটি ভাবে চলে যাবে।

অনেকে বলেন সফটওয়্যার তো ইন্সটল হলো, চালু তো হলো… চালু অনেক সফটওয়্যারই হবে তবে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বলতে একটা ব্যাপার আছে। ৪০-৪৫ বাজেটে আপনি যে আই৩ ল্যাপটপ পাবেন, সেগুলোতে প্রিমিয়ার প্রো’র মতন ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার চালু হলেও, আপনি ভিডিও এডিট করে মোটেও সেরকম অভিজ্ঞতা পাবেন না।

আপনার বাজেট যদি ৫৫-৬০ হয় তবে আপনি আই৫/রাইজেন৫ প্রসেসরের ল্যাপটপগুলি পেয়ে যাবেন। এগুলো দিয়ে সকল প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার তো চালাতে পারবেনই, বরং প্রোগ্রামিং, এডিটিং এর জন্য যে সফটওয়্যারগুলি রয়েছে সেগুলোও ভালভাবে চালাতে পারবেন। হয়তবা ৪কে মানের ভিডিও এডিট করতে পারবেন না… তবে সাধারন লো-এন্ড ভিডিও এডিটিং গুলো খুব ভালোভাবেই চলে যাবে এই বাজেট সিরিজের ল্যাপটপ গুলোতে।

আপনার বাজেট যদি ৬০ হাজারের বেশি হয়, তবে আপনি আই৫ এর সাথে গ্রাফিক্স কার্ড সহ ল্যাপটপ গুলো পেয়ে যাবেন। আই৭ ল্যাপটপ গুলো কিনতে হয়ত আপনার ৭০ হাজারের বেশি টাকা খরচ করতে হবে।

দরকারি সফটওয়্যার গুলোর হার্ডওয়্যার রিকুয়ারমেন্ট

আপনি যদি দরকারি সফটওয়্যার গুলোর হার্ডওয়্যার রিকারমেন্ট সম্পর্কে জানেন তখন আপনার কাছে পারফেক্ট ল্যাপটপ বাছাই করতে সুবিধা হবে। প্রোগ্রামিং এর জন্য জনপ্রিয় আইডিই হচ্ছে পাইচার্ম অথবা ইন্টেলিজ প্লাটফর্ম। এগুলোর জন্য মিনিমাম ২ জিবি র‍্যাম হলেই চলে, তবে সফটওয়্যার গুলো ৮ জিবি র‍্যাম রেকোমেন্ড করে থাকে। এই সফটওয়্যার গুলো ভালোভাবে চলার জন্য মিনিমাম ২ জিবি স্টোরেজ ফাকা থাকলেই হয়। তবে সফটওয়্যার রেকমেন্ড করে ৪ জিবি স্টোরেজ ফাকা রাখতে।

যারা এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করতে চান, তাদের জন্য দরকার এন্ড্রয়েড স্টুডিও। এই এন্ড্রয়েড স্টুডিও কাজ করতে মিনিমাম দরকার হয়, ৪ জিবি র‍্যাম। তবে সফটওয়্যার রেকমেন্ড করে ৮ জিবি র‍্যাম।

ভিডিও এডিটিং এর জন্য জনপ্রিয় সফটওয়্যার প্রিমিয়ার প্রো মিনিমাম ৮ জিবি র‍্যাম রেকোমেন্ড করে। ৮ জিবি মিনিমাম র‍্যামের পাশাপাশি এই সফটওয়্যারটি ২ জিবি গ্রাফিক্স কার্ডও রেকমেন্ড করে থাকে। পাশাপাশি সফটওয়্যারটি ইন্টেলের মিনিমাম আই৫ ৬ জেনারেশন বা সমমানের প্রসেসরকে রেকমেন্ড করে।

অন্যদিকে প্রোগ্রামিং এর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি আইডিই হচ্ছে মাইক্রোসফটের ভিজুয়াল স্টুডিও। এই ভিজুয়াল স্টুডিও রান করতে দরকার হয় মিনিমাম ২ জিবি র‍্যাম। ভিজুয়াল স্টুডিও সফটওয়্যারটির মিনিমাম সিপিইউ রিকুয়ারমেন্ট হচ্ছে ১্‌.৮ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর। তবে ডুয়াল কোর প্রসেসর দিয়েই সক্ষম।

সুতরাং এই বিষয়গুলি থেকে বোঝা যায় যে, আপনি কেবল প্রোগ্রামিং করতে চাইলে ৪০-৪৫ হাজারের আই৩ ল্যাপটপ গুলো দিয়েই শুরু করতে পারেন। কিংবা বাজেট যদি তারও কম হয় ধরুন ৩৫ তবে আপনি পেন্টিয়াম কিংবা এমএমডির এথলন সিরিজ দিয়েও আপনার প্রোগ্রামিং এর কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে আপনার রিকারমেন্ট যদি আরেকটু বেশি হয়, তবে আপনার ৫৫-৬০ হাজার বাজেটের দিকে যেতে হবে।

পরিশেষে

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে আমরা বডির দিকটা অনেকসময় সেভাবে নজর দেইনা। তবে নতুন একটি ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে উচিত হচ্ছে মেটাল বডির ল্যাপটপ কেনা। কেননা সচরাচর প্লাস্টিক বডির ল্যাপটপ গুলো সময়ের সাথে সাথে একটু ফ্লেক্সিবিলিটির দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পরে। প্লাস্টিক বডির ল্যাপটপে ডিসপ্লের হিঞ্জ মেকানিজমে কয়েকবছর পর থেকে সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ প্লাস্টিক বডির ল্যাপটপে সময়ের সাথে সাথে ডিসপ্লে খোলা-মেলার যে অংশ সেটা দুর্বল হয়ে পরে।

তবে প্লাস্টিক বডির ল্যাপটপ যদি কেনেন, তবে আপানার ল্যাপটপের হিঞ্জ মেকানিজম ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাকানো যায় কিনা দেখে নিবেন, এতে করে আপনার ডিসপ্লের হিঞ্জ মেকানিজম একটু বেশি দিন টেকসই হবে।

নতুন ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের দেশে ডিসপ্লে নিয়ে অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ৬৫-৭০ হাজারের নিচের বাজেটের ল্যাপটপে আইপিএস ডিসপ্লে পাওয়াই যায় না। তাই বাজেট এবং মিড বাজেট ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এফএইচডি তথা সাধারন এইচডি এলসিডি ডিসপ্লেই ভরসা।

অনেকে ল্যাপটপে টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লের কথা বলেন, তবে আদত ল্যাপটপে টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের কোন দরকারই নেই। বিশেষ করে আপনার কলেজ কিংবা ভার্সিটি জীবনে তো এর দরকার আরো নেই। আপনি হয়ত দাম বেশি দিয়ে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ কিনলেন, তবে পরে দিয়ে সেটিই অতিরিক্ত মনে হবে আপনার কাছে।

আর যারা ভিডিও এডিটিং এর গ্রাফিক্সের কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনবেন, তারা চেষ্টা করবেন ১৫.৬ ইঞ্চি সাইজের ডিসপ্লে কেনার জন্য। কেননা ভিডিও এডিটিং ক্ষেত্রে ডিসপ্লেতে টাইমলাইন, টুলস, এডিটিং প্যানেল ইত্যাদির জন্য অনেক জায়গা দরকার, ছোট ডিসপ্লে দিয়ে শান্তিমতন কাজ করতে পারবেননা।

তবে যদি আপনি প্রোগ্রামিং বা কোডিং এর জন্য ল্যাপটপ ব্যবহার করতে চান, তবে অবশ্যই ১৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে নেয়াই উত্তম হবে। কেননা ১৪ ইঞ্চির ল্যাপটপ সহজেই যেকোনো জায়গায় বহন করা আপনার জন্য অনেক বেশি সহজ হবে। স্টুডেন্ট বিশেষ করে সিএসইর স্টুডেন্টদের নিজের ল্যাপটপ বহন করা অনেক বেশি জরুরি।

আশা করি এই বিস্তারিত লেখাটি নতুন ল্যাপটপ কেনা সম্পর্কিত অনেক তথ্যই আপনার কাছে সহজ হয়েছে। আপনার আরো কিছু জিজ্ঞাসা বা জানার থাকলে… নিচে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

You're reading eProjonmo, the versatile technology news portal of bd.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *