প্রসেসরের বাজারে স্ন্যাপড্রাগনকে টপকাচ্ছে মিডিয়াটেক!

2
0

সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়াটেকের প্রসেসরে অনেক বড় বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে একসময় মিডিয়াটেক এর প্রসেসর মানেই সবার কাছে ছিল ফোন গরম হওয়া , ফোন হ্যাং হওয়ার মতন চিত্র! আর সেই কারনে মানুষ নতুন স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে মিডিয়াটেকের বদলে স্ন্যাপড্রাগনের প্রসেসরকে বেশি গুরুত্ব দিত। তবে আপনি যদি বর্তমান সময়ের দিকে তাকান, মিডিয়াটেক খুব ভালোভাবে ঘুরে দাড়াতে শুরু করছে! বাজারে স্ন্যাপড্রাগনের খুব শক্তিশালী প্রসেসরের সাথে টেক্কা দিয়ে তারা ফ্ল্যাগশীপ গ্রেড স্মার্টফোনের জন্য দারুন দারুন সব চিপসেট নিয়ে আসছে।

বলতে হবে স্মার্টফোনের চিপসেটের বাজারে বাজি সম্পূর্ণরূপে ঘুরে গিয়েছে। এখানে স্ন্যাপড্রাগনের প্রসেসর গরম হওয়া শুরু হয়েছে আর কোম্পানিগুলো তাদের স্মার্টফোন উৎপাদনে জন্য মিডিয়াটেকের প্রসেসর ব্যবহার শুরু করছে। ইতিপূর্বে হেলিও থেকে জি সিরিজের বিভিন্ন বাজেট এবং মিড বাজেট প্রসেসর তৈরি করে মিডিয়াটেক স্মার্টফোন চিপসেট বাজারে শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করেছেই! এখন মিডিয়াটেক ৫ জি এবং ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের চিপসেটের বাজারেও স্ন্যাপড্রাগনকে টেক্কা দিচ্ছে।

এতদিন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের বাজারে স্ন্যাপড্রাগনকে টেক্কা দেবার মতন অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বীর স্থানটি এখন মিডিয়াটেক দখল করবার পর্যায়ে আছে। এমনকি তারা স্ন্যাপড্রাগনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের চেয়ে সাশ্রয়ী অথচ বেশি কার্যকর ফ্ল্যাগশীপ চিপসেট আনবার জন্য কাজ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কোয়ালকম তাদের স্ন্যাপড্রাগন সিরিজের নতুন দুটি ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট বাজার এনিয়ে আসে। এই দুটি চিপসেটের একটি হচ্ছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ এবং আরেকটি হচ্ছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন১ । এই দুটি প্রসেসর শুরু থেকেই সকল স্মার্টফোনে নানান ভাবে হিটিং ইস্যু দেখাচ্ছিল। আর এই সুযোগটি কাজে লাগায় মিডিয়াটেক। মিডিয়াটেক স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন১ কে টেক্কা দেবার জন্য বাজারে নিয়ে আসে তাদের ডাইমেনসিটি সিরিজের ৮০০০ এবং ৮১০০ সিরিজের প্রসেসর। আর আকস্মিকভাবে এই দুটি প্রসেসর স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন১ এর চাইতে বেশি ভালো পারফরমেন্স প্রদান করে; পাশাপাশি স্ন্যাপড্রাগনের হিটং ইস্যুর জন্য সবার মাঝে যে খারাপ ফিডব্যাক ছিল; নিজেরা নিজেদের প্রসেসর থেকে সেই হিটিং ইস্যুর মতন সমস্যা দূর করে ফ্ল্যাগশীপ বাজারে বেশ ভাল আস্থা অর্জন করে নেয়।

কোয়ালকম যেখানে তাদের স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ এবং ৮ জেন১ প্রসেসর এখন উৎপাদন করে যাচ্ছে, তাই বাজারে এখন স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর সম্বলিত স্মার্টফোনগুলোতে এই মডেলগুলোই দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিডিয়াটেক তাদের ডাইমেনসিটি সিরিজকে আরো জোরে-সোরে তা দিচ্ছে!

স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন১ কে খুব ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী বানানোর জন্য মিডিয়াটেক এনেছে ডাইমেনসিটি ৯০০০ সিরিজের প্রসেসর। ওয়ানপ্লাস তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোন ১০আর কেও এই ডাইমেনসিটি ৯০০০ প্রসেসর দিয়ে নিয়ে আসছে। রিয়েলমি’ও তাদের জিটি নিও’৩ স্মার্টফোনে মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি ৮০০০ প্রসেসর ব্যবহার করবে; যেখানে ফোনটি  নাকি১৫০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংও সাপোর্ট করবে!

মূলত কোয়ালকমের স্যামসাং এর ৪-৫ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ভিত্তিক চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলেই ৮৮৮ এবং ৮ জেন ১ সিরিজ নিয়ে এই বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। কেননা স্যামসাং এর এই ৪-৫ ন্যানোমিটার ভিত্তিক চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি অনেক বেশি হিট প্রডিউস করে। অন্যদিকে মিডিয়াটেক তাদের নতুন ডাইমেনসিটি প্রসেসর বা চিপসেট গুলোর জন্য ব্যবহার করেছে টিএসএমসি এর ৪ ন্যানোমিটার চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি। টিএসএমসি এর ৪ ন্যানোমিতার চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি চিপকে অনেক বেশি ঠান্ডা রাখে। যার ফলে প্রসেসর থেকে অনেক বেশি পারফ্রমেন্স পাওয়া যায়।

অ্যাপেলও তাদের আইফোনের এ১৫ বায়নিক চিপের জন্য টিএসএমসির একই চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এইসকল দারুন সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে মিডিয়াটেক ধীরে ধীরে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগনকে খুব ভালোভাবে ধাক্কা দিতে শুরু করেছে। যেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে মিডিয়াটেককে খুব ভালোই বেগ পেতে হতে পারে।
মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি সিরিজের বাজারে সফলতা অর্জন করার অন্যতম আরেকটি কারন হচ্ছে যে; স্ন্যাপড্রাগনের ৮৮৮ এবং ৮ জেন১ খুবই দামি স্মার্টফোন প্রসেসর। কোম্পানিগুলোকে এই প্রসেসরগুলোকে তাদের স্মার্টফোনে যুক্ত করতে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে। অন্যদিকে মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি প্রসেসরগুলোকে স্মার্টফোনে যুক্ত করতে ব্র্যান্ডগুলোর অত বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছেনা।

মিডিয়াটেকের বর্তমান পদক্ষেপগুলো আসলেই অনেক বেশি প্রশংসনীয়! দারুন প্রযুক্তির নতুন চিপসেট গুলো যেমন স্ন্যাপড্রাগনকে টেক্কা দিবে, তেমনিভাবে ফ্ল্যাগশীপ গ্রেড স্মার্টগুলোর দাম হাতের নাগালে নিয়ে আসতে পারবে।

You're reading eProjonmo, the versatile technology news portal of bd.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *